নেত্রকোনা জেলাধীন কেন্দুয়া উপজেলার চৌমুরিয়া গ্রামে প্রতিষ্ঠিত “শিক্ষাবিদ আব্দুর রহমান ভূঁইয়া স্মৃতি বিদ্যালয়টি যে জ্ঞানী ও স্বনামধন্য ব্যক্তির নাম ও স্মৃতি রক্ষার্থে স্থাপিত হয়। তিনি শিক্ষাবিদ মরহুম আব্দুর রহমান ভূঁইয়া (বিএ, বিএল, বিটি)। তার সংক্ষিপ্ত জীবনী এখানে পত্রস্থ করা হলো। মরহুম শিক্ষাবিদ আব্দুর রহমান ভূঁইয়া ১৯০৫ সনে নেত্রকোনা জেলাধীন কেন্দুয়া উপজেলার (তৎকালীন কেন্দুয়া খানা) ব্রাহ্মনজাত গ্রামে এক সন্ত্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন জন মেধা ও বুদ্ধি বিকাশের এক অণীয় পথ প্রদর্শক। শিক্ষাজীবনে তিনি কোন ক্লাশেই দ্বিতীয় হন নাই। তিনি ১৯২০ সনে কেন্দুয়া জয়হরি স্পাই উচ্চ বিদ্যালয় হতে ডিস্টিংশন নম্বরসহ প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক পাশ করেন। ১৯২২ সনে ময়মনসিংহ আনন্দমোহন কলেজ থেকে প্রথম বিভাগে আই,এস,সি পাশ করেন। অতঃপর ডাক্তারী পড়ার জন্য ১৯২৩ সনে কলকাতায় মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। কিন্তু কলকাতার জীবন তাঁকে আকৃষ্ট করতে না পারায় এক বৎসর পর ফিরে এসে পুনরায় ময়মনসিংহ আনন্দমোহন কলেজে বিএ ক্লাশে ভর্তি হন এবং ১৯২৬ সনে প্রথম বিভাগে বিএ উত্তীর্ণ হন। এর পর আইন বিভাগে ভর্তি হন। যথারীতি ১৯২৯ সনে আইনে স্নাতক (বিএল) ডিগ্রী, প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। ১৯৩০ সনে আইবে সনদ প্রাপ্তির পর আইন পেশায় আত্মনিয়োগ করেন। একই সঙ্গে জজ আদালত কর্তৃক তিনি হাড়ি বোর্ডের সদস্য নির্বাচিত হন। কিন্তু একটি মামলায় বিতর্কিত ও বিভক্তি রায়ের কারণে তিনি জুয়ি বোর্ডের সদস্যপদ পরিত্যাগ করে শিক্ষকতা করার মানলে আইন পেশা থেকে অব্যাহতি গ্রহণ করেন। আইন পেশা থেকে অব্যাহতির অবহিত পরেই কেন্দুয়া উপজেলার নওপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসাবে যোগদান করে শিক্ষকতার জীবন শুরু করেন। নওপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার পর ১৯৪০। সনে কেন্দুয়া জয়হরি স্পাই উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধানশিক্ষক হিসাবে যোগদান করেন। কেন্দুয়া জয়হরি স্প্রাই উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার সময় ১৯৪৪ সনে ঢাকা শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজ হতে শিক্ষকতায় স্নাতক (বি,টি) ডিগ্রী লাভ করেন। অতঃপর ১৯৫৬ সনে কেন্দুয়া জয়হরি স্পাই উচ্চ বিদ্যালয় হতে প্রধান শিক্ষক হিসাবে মনন জাহাঙ্গীরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদানের উদ্দেশ্যে পদত্যাগ করেন। সাফল্য ও সুনামের সংগে মদন জাহাঙ্গীরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে। শিক্ষকতার কাজ চালিয়ে যান। পরে তার পূর্বতন কর্মস্থল কেন্দুয়া জয়হরি স্পাই উচ্চ বিদ্যালয়ের অনুরোধে এবং আমন্ত্রণে তিনি পুনরায় কেন্দুয়া জয়হরি স্পাই উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসাবে ১৯৫৪ সনে যোগদান করেন। দীর্ঘ ৮ বৎসর উক্ত বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার পর তিনি ১৯৬২ সনে। কেন্দুয়া জয়হরি স্প্রাই উচ্চ বিদ্যালয় হতে শিক্ষকতায় অবসর গ্রহণ করেন। তিনি বাংলা, ইংরেজী, ফার্সী ও উর্দুতে পারদর্শী। ছিলেন। তার শিক্ষকতা জীবনের সাফল্যের জন্য তাড়াইল উল্ল বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির অনুরোধে তাঁহার চাকুরীর বয়স বর্ধিত করলে তিনি ১৯৬৪ সনে তাড়াইল উন্দ্র বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসাবে যােগদান করেন। সুনাম ও সাফল্যের সংগে শিক্ষকতার কার্যক্রম চালিয়ে ১৯৬৭ সনে স্থায়ীভাবে অবসর গ্রহণ করেন। স্বাধীনতাউত্তর বাংলাদেশে নিজ এলাকাধীন ১৯৭২ সনে সাজিউড়া উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে এলকাবাসীর অনুরোধে উক্ত বিদ্যালয়ে অনারারি। প্রধান শিক্ষকের দায়েত্ব পালন করেন। দীর্ঘ ৩২ বছরের শিক্ষকতা জীবনে তিনি অসংখ্য জ্ঞানী ও গুনী ছাত্র তৈরী ও রেখে যান। প্রসংগত উল্লেখযোগ্য মোহনগঞ্জ হতে ১৯৭০ সনে নির্বাচিত জাতীয় পরিষদ সদস্য ডাঃ মোঃ আখলাকুর রহমান, কেন্দুয়া হতে নির্বাচিত জাতীয় পরিষদ সদস্য জনাব, এ্যাডভোকেট জুবেদ আলী, প্রাদেশিক পরিষদে নির্বাচিত সদস্য জনাব হাদিছ উদ্দিন চৌধুরী সহ আরো অসংখ্য উল্লপদস্থ কর্মকর্তা তার প্রিয় ছাত্র ছিলেন। সেই অদ্ভুতভয়, অক্লান্ত পরিশ্রমী, মেধাবী ও গুণী শিক্ষাবিদ ১৯৭৪ সনের ৯ই ডিসেম্বর তার নিজ বাসভবনে পরলোকগমন করেন। তার বর্ণাঢ্য ও কর্মময় শিক্ষকতা জীবনকে চিরস্মরনীয় ও তার স্মৃতি রক্ষার্থে তারই সুযোগ্য সন্তানগণের আর্থিক ও সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে অত্র এলাকাবাসী সর্বতো সহযোগীতায় উক্ত “শিক্ষাবিদ আব্দুর রহমান ভূইয়া স্মৃতি বিদ্যালয়টি ২০১১ সনে প্রতিষ্ঠিত হয়।
